২০০ বিলিয়ন ডলার — এই সংখ্যাটা শুনলে মনে হয়, বৈশ্বিক এন্টারপ্রাইজ এআই নিয়ে আকাশ ছোঁয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গার্টনারের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৫ সালে খরচ এই পরিমাণে পৌঁছেছে। তবে শিরোনামের নিচে যে গল্পটা লুকিয়ে আছে, তা অনেক বেশি জটিল — এবং বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
"ম্যাকিনসির ১,২০০ এন্টারপ্রাইজ জরিপ বলছে, সক্রিয় এআই পাইলট সহ কোম্পানিগুলোর মাত্র ১১%ই দুইয়ের বেশি ব্যবসায়িক ফাংশনে জেনারেটিভ এআই বৃহৎ স্কেলে চালু করেছে। বাকি ৮৯% — প্রায় সবাই — ১২-১৮ মাসের পরীক্ষার পরেও "পাইলট" বা "সীমিত-রোলআউট" পর্যায়ে আটকে আছে।
পাইলট থেকে প্রোডাকশন: কেন পারছে না
বিসিজি ১৮ মাস ধরে ফর্চুন ৫০০ কোম্পানির ১৫০টি এন্টারপ্রাইজ এআই ডেপ্লয়মেন্ট ট্র্যাক করেছে। তাদের ২০২৫ সালের রিপোর্ট নির্মমভাবে স্পষ্ট: জেনারেটিভ এআই পাইলটের ৭০% এক বছর পরেও "পরীক্ষামূলক" পর্যায়ে ছিল। প্রোডাকশনে উন্নীত হওয়া ৩০% এর মধ্যেও অর্ধেকই ১০%-এর বেশি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি দেখাতে পারেনি।
কেন ব্যর্থ হচ্ছে? সবচেয়ে বেশি উল্লেখিত কারণগুলো: তথ্যের মান সমস্যা (৪৪% কোম্পানি বলেছে), লিগেসি সিস্টেমের সাথে জোর করে জুড়ে দেওয়ার জটিলতা (৩৮%), অস্পষ্ট ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য (৩১%), আর নিয়ন্ত্রক নিরাপত্তা উদ্বেগ (২৭%)। সংক্ষেপে, সমস্যা এআই-তে নয় — সমস্যা সংস্থাগুলোর প্রস্তুতিতে।
টাকা কোথায় যাচ্ছে
২০২৫ সালে এন্টারপ্রাইজ এআই খরচের ভাগাভাগি: অবকাঠামো (ক্লাউড কম্পিউট, জিপিইউ ক্লাস্টার) ৪২%, প্ল্যাটফর্ম ও টুলিং ২৮%, অভ্যন্তরীণ প্রতিভা ও পরামর্শদাতা ২২%, তথ্য প্রস্তুতি ও শাসন ৮%। অবকাঠামোর অংশটা সবচেয়ে বড় — এটা বলছে, এআই-তে খরচ হওয়া টাকার উল্লেখযোগ্য অংশ আসলে হাইপারস্কেল ক্লাউড প্রদানকারীদের পকেটে যাচ্ছে, স্বনির্ভর মূল্য তৈরি হচ্ছে না। মাইক্রোসফট, গুগল আর অ্যামাজন ২০২৫ সালের Q৩ তে সম্মিলিতভাবে ৭৮ বিলিয়ন ডলার এআই-সম্পর্কিত ক্লাউড রাজস্ব রিপোর্ট করেছে — বছরে বছর ৬২% বৃদ্ধি।
কোডিং সহকারী: সবচেয়ে বেশি গৃহীত, তবে ঝুঁকি আছে
সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এন্টারপ্রাইজ এআই ব্যবহারের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র। গিটহাবের হিসাবে, কোপাইলট এখন ৭৭,০০০ সংস্থার ১.৮ মিলিয়ন ডেভেলপার ব্যবহার করছে। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল আর মাইক্রোসফটের ২০২৫ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, কোপাইলট ব্যবহারকারীরা কাজ ৫৫% দ্রুত সম্পন্ন করেছে — তবে শর্ত আছে। এআই-জেনারেটেড কোডের মান পর্যালোচনা দরকার হয়েছে ৩৮% ক্ষেত্রে, আর নিরাপত্তা দুর্বলতা প্রায় ৮% এআই-প্রস্তাবিত কোড ব্লকে পাওয়া গেছে। মানে, গতি বাড়ে — কিন্তু মানব নজরদারি ছাড়া চলে না।
কাস্টমার সার্ভিস: স্বয়ংক্রিয়, তবে কম সন্তুষ্ট
কাস্টমার সার্ভিস অটোমেশন দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষেত্র। সেলসফোর্স রিপোর্ট করেছে, তার আইনস্টাইন এআই প্ল্যাটফর্ম প্রতি ত্রৈমাসিকে ৩১ বিলিয়ন কাস্টমার ইন্টারঅ্যাকশন প্রক্রিয়া করে। গার্টনার অনুমান করেছে, ২০২৬ সালের মধ্যে সমস্ত কাস্টমার সার্ভিস ইন্টারঅ্যাকশনের ৩০% এআই দ্বারা পরিচালিত হবে — ২০২৪ সালের ১২% থেকে। তবে একটি বিড়ম্বনা আছে: এআই-পরিচালিত ইন্টারঅ্যাকশনের গ্রাহক সন্তুষ্টি স্কোর মানব-পরিচালিতের তুলনায় গড়ে ১৪ পয়েন্ট কম।
কন্টেন্ট জেনারেশন: দ্রুত গ্রহণ, তবে ঝুঁকি আছে
রয়টার্স ইনস্টিটিউটের ২০২৫ সালের সার্ভে বলছে, ৬২% নিউজরুম নেতা ড্রাফটিং, সম্পাদনা বা কন্টেন্ট আইডিয়েশনের জন্য এআই ব্যবহার করেছে। কিন্তু একই সার্ভেতে ৪৭% কমপক্ষে একটি ঘটনা অনুভব করেছে যেখানে এআই-জেনারেটেড কন্টেন্টে তথ্যগত ত্রুটি ছিল, আর ২৩% সরাসরি সংশোধনী প্রকাশ করেছে।
এগিয়ে কী
গার্টনার ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, ২০২৭ সালের মধ্যে বর্তমান জেনারেটিভ এআই ভেন্ডর স্টার্টআপের ৪০% অধিগ্রহিত, পিভট বা বন্ধ হয়ে যাবে। বিজয়ী হবে সেই প্ল্যাটফর্মগুলো যা ইন্টিগ্রেশন আর তথ্যের মানের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারে — যেগুলো বর্তমানে প্রোডাকশন ডেপ্লয়মেন্টকে বাধাগ্রস্ত করে আছে। ২০০ বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন হলো, বাকি ৮৯% পাইলট রূপান্তরিত হবে কিনা — এবং আরওআই খরচের ন্যায্যতা প্রমাণ করবে কিনা।